ধামরাইয়ে ২০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে ঝুলছে তালা: চিকিৎসা বঞ্চিত হাজারো মানুষ
ঢাকার ধামরাইয়ে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও গাফিলতিতে অকেজো হয়ে পড়ে আছে কৃষ্ণনগর ২০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল। সুচিকিৎসার আশায় প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে রোগীরা আসলেও তালাবদ্ধ হাসপাতাল দেখে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোনো তদারকি না থাকায় বর্তমানে হাসপাতালটি মাদকসেবীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে প্রায় ৪ একর জায়গার ওপর আধুনিক মানের এই হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটির প্রধান ফটকসহ অধিকাংশ কক্ষেই তালা ঝুলছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছরেও এখানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়নি। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন ও আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। জানালা-দরজা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই হাসপাতাল চত্বরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা এলাকাবাসীর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিএমএমইউ-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল মো. ফজলুর রশীদ মৃধার উদ্যোগে এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্থানীয়রা নামমাত্র মূল্যে তাদের আবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন উন্নত চিকিৎসার আশায়। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।
জমিদাতা সুলতান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "এলাকার মানুষের উপকারের কথা ভেবে আমরা ৫৫ শতাংশ জমি নামমাত্র দামে দিয়েছিলাম। আজ চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারই পাওয়া যায় না। এর চেয়ে এখানে কোনো গার্মেন্টস হলেও এলাকার মানুষ অন্তত কাজ করে খেতে পারত।"
স্থানীয় বাসিন্দা শফিজুদ্দিন জানান, গত কয়েক মাস ধরে কোনো চিকিৎসক এখানে আসেন না। মাঝে মাঝে দুজন নার্স আসলেও ওষুধের অভাবে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় হাসপাতালটি এখন একটি ‘ভূতুড়ে বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহমেদুল হক তিতাস বলেন, "বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধামরাই সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। লোকবল সংকটের কারণে আপাতত এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।"
দীর্ঘদিন ধরে সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments