Image description

লালমনিরহাট জেলা শহরের শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বইমেলার স্টলগুলো ঘিরে শিক্ষার্থীদের ছিল প্রাণচঞ্চল ও আনন্দময় উপস্থিতি। রঙিন প্রচ্ছদের বই হাতে নিয়ে কেউ পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার মেঝেতে বসে গভীর মনোযোগে বই পড়ায় মগ্ন। গল্পের বই, ছড়া, নৈতিক শিক্ষা, সাধারণ জ্ঞান ও শিশুতোষ সাহিত্য শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

মেলায় অনেক শিক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা করছে, কেউ পছন্দের বইটি অভিভাবকের কাছে দেখিয়ে কেনার আবদার জানাচ্ছে। বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে নতুন শব্দ শেখা, ছবির মাধ্যমে গল্প বোঝার চেষ্টা—সব মিলিয়ে বইমেলাটি শিশুদের কৌতূহল, কল্পনা ও জ্ঞানচর্চার এক আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের বই বাছাইয়ে সহায়তা করেন এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে উৎসাহ দেন। পুরো মেলা জুড়েই ছিল পড়ার আনন্দ, শেখার উচ্ছ্বাস আর বইয়ের সঙ্গে শিশুদের এক আন্তরিক বন্ধনের চিত্র।

বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশু কর্নার। ২ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী বই দিয়ে সাজানো এই কর্নারে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশা’-এর পরিচালনায় এবং আলোঘর প্রকাশনার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বইমেলা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বইমেলা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন,‘শিশুদের মেধা ও মানসিক বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ছড়া, গল্প, ছবি আঁকার বইসহ নানা ধরনের বই অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের মোবাইল ও গ্যাজেটের প্রতি আসক্তি কমাতে হলে তাদের হাতে বই তুলে দিতে হবে। বাবা-মা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকেই শিশুরা শেখে। তাই প্রতিটি অভিভাবকের উচিত গ্যাজেটের ব্যবহার কমিয়ে সন্তানদের সঙ্গে বই নিয়ে সময় কাটানো।’

পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করতে চান বলে জানান আলোঘর প্রকাশনার প্রতিনিধি মো. সোয়েফ মিয়া।

উল্লেখ্য, শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল লালমনিরহাট জেলার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়মিত উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা ও সহপাঠ কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঠদানকে আনন্দময় করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছে।