Image description

রংপুরের মিঠাপুকুরে এক স্কুলছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ করার অভিযোগে মো. হালিম নামে এক শিক্ষককে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. হালিম উপজেলার বলদিপুকুর শাহ আবুল কাসেম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক। 

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মো. হালিম তার বিদ্যালয়েরই এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই শিক্ষক ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে গোপনে বিয়ে করেন। আইনত ১৮ বছরের নিচে বিয়ে বাল্যবিবাহের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন নৈতিক স্খলনজনিত আচরণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. হালিম নিজেই ওই ছাত্রীর সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। 

তারা বলেন, “শিক্ষক হলেন জাতি গঠনের কারিগর। সেখানে একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দুই সন্তান এবং স্ত্রী থাকার পরেও এমন কর্মকাণ্ডে আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।” অভিযুক্ত শিক্ষক বহাল থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর