Image description

বরগুনার তালতলী উপজেলার মালীপাড়া সুইচগেট এলাকায় গণভোটের প্রচারণামূলক পোস্টার রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই স্থানে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে পুনরায় পোস্টার লাগাতে গেলে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভোটে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পক্ষ থেকে মালীপাড়া সুইচগেটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু পোস্টার টাঙানো হয়। তবে সোমবার সকালে এলাকাবাসী দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অধিকাংশ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পুনরায় ওই স্থানে পোস্টার লাগাতে যান এনসিপি-এর নেতাকর্মীরা। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের কাজে বাধা দেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পোস্টার লাগাতে নিষেধ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বরগুনা জেলা সংগঠক এম. শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "তালতলী সদরের শাপলা মার্কেটের তিনতলায় আগে থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ব্যানার ছিল, যা উপজেলা বিএনপি নেতা কাদের জোমাদ্দার লাগিয়েছিলেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে এবং ভবনের মালিকের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে সেই ব্যানারটি সাবধানে খুলে তাঁর কাছে জমা দিয়ে নতুন ব্যানার লাগিয়েছিলাম। বিষয়টি আগেই মীমাংসিত ছিল। এরপরও রাতের আঁধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং আজ পুনরায় লাগাতে বাধা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগণতান্ত্রিক।"

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তালতলী থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে প্রচারণায় বাধা দেওয়া সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর