Image description

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত স্নাতক পরীক্ষার্থী আশ্রাফুল ইসলাম (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার ধানমন্ডির নিউলাইফ বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহতের ভগ্নীপতি স্বপন মালত আশ্রাফুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আশ্রাফুল ইসলাম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকার খান বাড়ির আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং পুরো এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ঢালিকান্দি গ্রামের একটি ফসলি খেত থেকে আশ্রাফুলকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসা কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদকসেবী শাহিন বেপারি (২৬)-এর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আশ্রাফুলের ওপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে মাথায় আঘাতসহ বেধড়ক মারধরের ফলে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত শাহিন বেপারিকে গ্রেপ্তার করেছে। আশ্রাফুলের মৃত্যুর পর এখন মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এখনো মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে। তারা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, “হামলায় আহত কলেজছাত্র আশ্রাফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত সকল প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।”

উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী এবং চরআবাবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবীদের তৎপরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর আগেও এসব এলাকায় একাধিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর