Image description

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বিউটি পার্লারের বারান্দা থেকে তাহারিয়া তাবাসসুম নাদিয়া (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলা গেট সংলগ্ন ‘ওমেন্স পারসোনা বিউটি পার্লার’ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাদিয়া উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামের সফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় কন্যা। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি গত দেড় বছর ধরে ওই পার্লারে কাজ শিখছিলেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে কাজ শেষে পার্লারের মালিক ও কর্মীরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে সৌদি আরব প্রবাসী কাউছার নামে এক যুবক পার্লারের কর্মী শাহিনুর আক্তারকে ফোন করে নাদিয়ার খোঁজ নিতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শাহিনুর নাদিয়াকে শয়নকক্ষে না পেয়ে পার্লারের বারান্দায় খুঁজতে যান। সেখানে বারান্দার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান তিনি।

পরে পার্লারের মালিক সীমা রানী পাল ও বাড়ির মালিক মানিক চন্দ্র পালকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দরজা ভেঙে বারান্দায় গিয়ে নাদিয়াকে গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পার্লারের মালিক সীমা রানী পাল জানান, নাদিয়া প্রায়ই ফোনে কথা বলতেন। তবে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় কেউ হস্তক্ষেপ করেননি। ওই সৌদি প্রবাসীর সঙ্গেই সম্ভবত তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ঢাকায় একটি হোটেলে চাকরি করি। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালে থানায় এসেছি। কী কারণে মেয়ে এমন পথ বেছে নিলো, তা এখনো বুঝতে পারছি না।”

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর