নওগাঁর আত্রাইয়ে দীর্ঘ ১৯ মাস নিখোঁজ থাকার পর সুমন (৩৯) নামের এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পৈসা গ্রামের একটি ডোবা থেকে তাঁর হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাতে পৈসা গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের জিডির পর তদন্তে নেমে পুলিশ একটি ইটের ওপর রক্তের দাগ পায়। ডিএনএ পরীক্ষায় সেই রক্ত সুমনের বলে নিশ্চিত হওয়ার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর তাঁর স্ত্রী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন মামলাটির কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় সম্প্রতি পুলিশ সুপার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় প্রধান আসামি শাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল স্বীকার করেন যে, তাঁর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সুমনকে হত্যা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ডোবা সেচে সুমনের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। ১৯ মাস আগে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, "এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও ক্লু-লেস মামলা ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments