এমপি হলে কোনো সরকারি সুবিধা নেব না: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ড. মাসুদ ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো ব্যক্তিগত সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত এই জনসমুদ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী।
সমাবেশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিচ্ছি—এমপি হলে আমি কোনো ব্যক্তিগত সরকারি সুবিধা নেব না। প্লট নেব না, ট্যাক্স ফ্রি গাড়িও নেব না। এমপি হিসেবে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা বাউফলবাসীর কল্যাণে ব্যয় করা হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাউফলকে মাদকমুক্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করব।”
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “বাউফলের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে এবং চরের জমিতে ‘যার জমি তার ফসল’—এই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ক্ষমতায় যাই বা না যাই, বাউফলের বগা সেতু বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করব।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “১০ দলীয় ঐক্য কোনো একক নেতার আধিপত্য বা কোনো দলের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গঠিত হয়নি। এই ঐক্য গঠিত হয়েছে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আমরা নিজেদের ভাগ্য গড়তে নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।”
প্রধান বক্তা হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের সাহস জুগিয়ে বলেন, “বাউফলবাসী সৌভাগ্যবান যে তারা ড. মাসুদের মতো একজন যোগ্য নেতাকে প্রার্থী হিসেবে পেয়েছে। কোনো চাঁদাবাজ বা টেন্ডারবাজের হাতে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যারা ভয় দেখায়, তারা নিজেরাই ভীত। আপনারা নির্ভয়ে সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”
বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. ইসহাকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেনসহ ১০ দলের জেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments