Image description

শরীয়তপুরের দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধার অভিযোগে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তার বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে শরীয়তপুর-২(নড়িয়া-সখিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া ও এর আগে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের নিবার্চনী পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলার তিনটি আসন থেকে ২১ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর বুধবার থেকে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তাদের সমর্থকরা। গত শনিবার শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসনে সখিপুরের চরকুমারিয়া ইউনিয়নের বাহের চর মকবুল হোসেন মোল্লা কান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া ও কর্মীরা। এসময় সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির সমর্থকরা তাদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠে।

এছাড়াও তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনায় রোববার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোর্শেদা হক পাপিয়া। 

অন্যদিকে গত শুক্রবার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চর ধানকাঠি এলাকার আক্তার বেপারীর বাড়িতে নারীদের জামায়াতের নিবার্চনী প্রচারণার অংশ (নারীদের নিয়ে তালিম) চলাকালে বাধা দেয়া এবং নারীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠে স্থানীয় যুবদল নেতা কাদের মৃধা ও মনির মৃধাসহ তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসময় বাড়ির মালিক আক্তার বেপারী ও শিমুল বেপারীকে লাঞ্চিত করা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। পরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আজহারুল ইসলামের সাথে মোবাইলফোনে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় নিবার্চনী পরিবেশ সুন্দর রাখার দাবীতে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলামের নিবার্চনী পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া বলেন, ‘বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। এতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের নিরবতার সুযোগ নিয়ে বারবার এমন বাধা দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।’

জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের নিবার্চনী পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিএনপি প্রার্থী দুঃখ প্রকাশ করায় আমরা আইনি পদক্ষেপ নেইনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় তার লোকজন আর বাঁধা সৃষ্টি করবে না। বিষয়টি আমরা সহকারী কর্মকর্তাকে জানিয়ে রেখেছি।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এমনকি আমি পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি জামায়াত প্রার্থীর কোন লোকজন ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে আসেনি। কেন আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে আমি বুঝতে পারছি না। মিথ্যা প্রচারের কারণে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো।’

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর নির্বাচনী প্রচার ও মিডিয়া সেলের প্রধান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন সেখানে তারা নির্বাচনী আচারণবিধি ভেঙে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে প্রচারণা চালাচ্ছিলো। তখন স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চাইলে দুই পক্ষের লোকের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। তবে দুই প্রার্থী কথা বলে বিষয়টি সমঝোতা করেছেন।’

বিষয়টি নিয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল হক বলেন, এমন একটি খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে দুই প্রার্থী সমঝোতা করে ফেলায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। 

এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জেলা রিটানিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।