Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দেশে সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে একজন সাধারণ কৃষক ও রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির জন্য আইনের প্রয়োগ হবে একই সমান। বিচারে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে বসিয়ে রাখতে চাই না, আমরা তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্মান দিতে চাই। চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলো মূলত চুরি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়েছে। এই অনিয়মগুলো বন্ধ করতে পারলে কারখানাগুলো পুনরায় চালু হবে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।”

আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ এখন অনেক সচেতন। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে বাংলাদেশ ও আজাদী, আর ‘না’ ভোট মানে আধিপত্যবাদ ও গোলামী। ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে এ দেশে ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হবে এবং চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ হবে। তাই ভোটের বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে দিতে হবে।”

নারী কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। যারা নিরীহ নারীদের ওপর হামলা চালায়, তারা কখনো সভ্য হতে পারে না। কোনো রক্তচক্ষু আমাদের দমাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ বিজয় সুনিশ্চিত।”

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা আমির আয়কর আইনজীবী মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা আর কারো দাসত্ব বা গোলামী করতে চাই না, আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।”

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। আমরা নির্বাচিত হলে এই কৃষিপ্রধান জেলায় মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করব। চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “বেকারত্বমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত চুয়াডাঙ্গা গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে আমরা যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব।”

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিকসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে এই জনসভায় যোগ দেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর