Image description

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মা ও মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে আলী হোসেন (২৮) নামের এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মাদক সেবন করতেন এবং ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ৩ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম।

তিনি বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে উপজেলার শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল টানা ১০ দিন অনুসন্ধান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আমেনা বেগমের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও তাঁর সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে বাড়ির মালিকের কাছেও স্পষ্ট তথ্য ছিল না। পরে বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আসামি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো বাগান, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে তিনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থান পরিবর্তন করতেন।

তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা–কুমিল্লা মহাসড়কের দাউদকান্দি ব্রিজসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি পুলিশকে জানান, মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার দিন সকালে আমেনা বেগম ফোনে ভিডিও দেখছিলেন। শব্দ কমাতে বলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় মরিয়ম মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম আরো বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ভবঘুরে ধরনের জীবনযাপন করতেন। ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সহিংস আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম।