নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন না করলে জনপ্রতিনিধিদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ–পূবাইল–বাড়িয়া) সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও জনতার দলের মহাসচিব আজম খান। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমি বা অন্য যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইবে, তাদের ইশতেহার সঙ্গে রাখবেন। যদি কথা দিয়ে কথা না রাখে, তবে তাদের স্যান্ডেল নিক্ষেপ করবেন।"
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৈনিক মানবকণ্ঠকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আজম খান বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। তাই জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যারা বারবার ক্ষমতায় থেকেছে, তারা ভোট চাইতে এলে জনগণকে জিজ্ঞেস করতে হবে—আপনার উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কী পরিবর্তন হয়েছে?" তিনি নিজের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত হয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে জনগণ যেন তাকেও ছাড় না দেয়।
কালীগঞ্জকে একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা জানিয়ে আজম খান বলেন, পুরো উপজেলাকে আধুনিক স্যাটেলাইট ক্যামেরা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।
অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, "এমন ব্যবস্থা করা হবে যে দোকানের সামনে দিয়ে একটি পিঁপড়া গেলেও তা স্পষ্ট দেখা যাবে। এতে চুরি-ডাকাতি বন্ধ হবে।" এছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনা ঘটলে ‘আজম খান ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তকে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এলাকায় গরু চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি গরু হারিয়ে গেলে একটি দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। মামলা-মোকদ্দমার ঝামেলা এড়াতে তিনি তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আজম খান বলেন, টঙ্গী–কালীগঞ্জ সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া পূবাইলের নাগদা নদী ও সংশ্লিষ্ট খাল খননের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার কাজ আগামী মাসেই শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, খাল সংস্কারের পর দুই পাশে বৃক্ষরোপণ এবং শব্দহীন স্পিড বোট চালু করে পূবাইলের বেলাই-বিলকে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি বাজার ও এলাকায় অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। সেখানে যে কেউ নাম গোপন রেখে এমনকি প্রার্থীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দিতে পারবেন। এসব অভিযোগ পর্যালোচনায় অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ বিচারকদের নিয়ে একটি কমিটি কাজ করবে এবং মাত্র সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments