তেল চুরির প্রতিবাদ করায় প্রহরীকে হত্যা: ৪ দিন পর মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ড্রেজারের তেল চুরির প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার নিখোঁজ নিরাপত্তা প্রহরী মো. সালাউদ্দিনের (৪৫) গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের চারদিন পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের মান্দারীটোলা এলাকার জেএমআই সংলগ্ন সাগর উপকূলীয় খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সালাউদ্দিন একই উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যবসায়ী কাজলের কর্মচারী শাকিল সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জ্বালানি তেল নিয়ে একটি বোটে করে বাড়বকুণ্ড যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাড়বকুণ্ড সাগর এলাকায় ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বোটটি থামিয়ে শাকিলকে মারধর করে সব তেল লুটে নেয়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে ব্যবসায়ী কাজল ও নিরাপত্তা প্রহরী সালাউদ্দিনসহ ৮ জন একটি স্পিডবোট নিয়ে ডাকাতদের সন্ধানে জেএমআই সংলগ্ন খালে যান। সেখানে ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে তেল লুটের কারণ জানতে চাইলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্যবসায়ী কাজল, জিকু, শাকিল, ইসলাম, মিজান ও সুমনসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। হামলার সময় ড্রেজারের প্রহরী সালাউদ্দিন নিখোঁজ হন।
নিহতের বোন জামাই আকবর হোসেন বাদশা জানান, সন্ত্রাসীরা সালাউদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করে আটকে রেখেছিল। চারদিন খোঁজাখুঁজির পর আজ তাঁর মরদেহ খালে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনিক ভক্ত জানান, নিহতের মাথা ও কপালে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ী কাজলের বড় ভাই জগলুল হোসেন নয়ন গত রোববার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি জানান, "আমার ভাই তেল চুরির কৈফিয়ত চাইতে গেলে ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কাজলের মাথায় কোপ লাগলে সে হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে, এতে তার হাতের তালু দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। আমরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments