Image description

চাঁদপুর-০৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে মূলত লড়াই হতে যাচ্ছে ত্রিমুখী। ভোটের মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দলীয় কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ধানের শীষের আধিপত্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘চিংড়ি’ প্রতীক। আর দুই শিবিরের এই বিভক্তির সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে কাজ করছে জামায়াতে ইসলামী।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৩১ জন। ৭০ শতাংশ ভোট কাস্টিং ধরলে ভোটের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৪২। জয়ের জন্য অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ভোটের প্রয়োজন হলেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার ভোট পেয়েও কেউ বিজয়ী হয়ে যেতে পারেন। তবে প্রার্থীরা ১ লাখ ২৫ হাজার ভোটকে জয়ের জন্য ‘সেফ জোন’ মনে করে এগুচ্ছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ দলীয় প্রতীক ধানের শীষ পেলেও তাঁর পথে রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ, রমনা থানায় জালিয়াতি মামলা (নং ০৪/২০০৯) এবং দুদকের মামলা তাঁর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সাধারণ ভোটারদের বিমুখ করছে। ফলে বিএনপির দুর্গের ভোট স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিপরীত মেরুতে ‘চিংড়ি’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল হান্নান। দলীয় পদ না থাকলেও উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের একটি বিশাল অংশ তাঁর পক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এলাকায় দান-অনুদান, কৃষি সহায়তা এবং মসজিদ-রাস্তাঘাট নির্মাণ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করেছে। এছাড়া দলীয় কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার কারণে সাধারণ ভোটারদের সহানুভূতিও পাচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি অংশও তাঁর ব্যালটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির এই গৃহবিবাদের সুযোগে পজিশন পাল্টে ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী। একসময় এ আসনে জামায়াতকে ‘সি’ ক্যাটাগরি মনে করা হলেও এখন তারা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে জামায়াতের প্রায় ৮০ হাজার নিজস্ব ভোটার রয়েছে, যা মোট ভোটারের ২০ শতাংশ। তাদের প্রার্থী একজন শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক ও সুধী মহলে তাঁর আলাদা প্রভাব রয়েছে। এছাড়া বিএনপি-স্বতন্ত্র সংঘাতের ভয়ে সাধারণ ভোটার ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা জামায়াতকে ‘নিরাপদ বিকল্প’ ভাবছেন। ধানের শীষ ও চিংড়ির লড়াই যত তীব্র হবে, জামায়াতের জয়ের পথ তত সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাঠে লাঙ্গল (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা (ইসলামী আন্দোলন) এবং মোমবাতি (ইসলামী ফ্রন্ট) প্রতীকের প্রার্থীরা খুব একটা শক্তিশালী অবস্থানে না থাকলেও তারা যে কয়েক হাজার ভোট টানবেন, তাতে বড় প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে যেতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আব্দুল হান্নানের (চিংড়ি) অবস্থান বেশ শক্তিশালী। তবে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে, সমীকরণ ততই পাল্টাতে পারে। ধানের শীষ ও চিংড়ির মধ্যে ভোট ভাগাভাগির হার যদি সমানুপাতিক হয়, তবে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’র জয় কোনো বিস্ময় হবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিআর