নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপ চাপায় ব্যাংকারের মৃত্যু, মুন্সীগঞ্জে রণক্ষেত্র
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভায় আসরের নামাজ পড়ে ইফতার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির পিকআপভ্যানের চাপায় ফারহান ফয়সাল (২৮) নামে এক তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই দুর্ঘটনার পর ঘাতক চালক ও সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ফয়সাল মিরকাদিম পৌরসভার গোয়ালঘুর্নি এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি যমুনা ব্যাংকের আলদি শাখার কর্মী এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শবে বরাতের রোজা রেখেছিলেন ফয়সাল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোয়ালঘুর্নি মসজিদে আসরের নামাজ শেষ করে পরিবারের জন্য ইফতার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে মসজিদের সামনেই একটি দ্রুতগতির পিকআপভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে পিকআপসহ চালক লিটন (২৮) ও তার সহযোগী মাইনুদ্দিনকে (২৬) আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের উদ্ধার করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মুক্তারপুর-শ্রীনগর সড়কের সিপাহিপাড়া চৌরাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। এতে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফয়সালের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, আটক চালক ও সহযোগী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments