সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের কেউ যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে—বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বন্দর শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এমন কোনো আইনি বা নৈতিক এখতিয়ার নেই যে তারা এমন চুক্তি করবে, যার ফলে বাংলাদেশ আগামী ৩০ থেকে ৬০ বছরের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগতভাবে একটি বিদেশি কোম্পানির কাছে বাঁধা পড়ে যাবে। অথচ সরকার জোরজবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে এই আত্মঘাতী চুক্তিটি সম্পন্ন করতে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদের প্রথম কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের এসব জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। একই সঙ্গে কেন এবং কীসের বিনিময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি এই বন্দর দিয়েই সম্পন্ন হয়। সেই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ যদি বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যায়, তবে বাংলাদেশ কার্যত একটি বিদেশি শক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।”
অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ উপেক্ষার সমালোচনা করে তিনি আরও জানান, বিদেশি কোম্পানির হাতে এনসিটি তুলে দিলে বন্দরের আয় কমবে। আর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর মাশুল বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে আমদানিব্যয় ও রপ্তানি খরচ বেড়ে পুরো অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, “যখন শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী—সবাই এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তখন সরকার কার স্বার্থে এত তাড়াহুড়ো করছে?”
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা এবং অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীনসহ অন্য বক্তারাও বক্তব্য দেন। তারা এই চুক্তিকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments