পাবনার ঈশ্বরদীতে চাহিদাকৃত চাঁদা না পেয়ে মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক কৃষকের দেড় বিঘা জমির গাজর ও অন্যান্য সবজি লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাকশি ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী কৃষক ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শরিফুল ইসলাম উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ প্রামাণিকের ছেলে।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীর আবাদি জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেত থেকে সদ্য তুলে নেওয়া গাজর ও সবজির উচ্ছিষ্ট অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। পাশে থাকা পেঁয়াজ ক্ষেতটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ওই কৃষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষক শরিফুল ইসলাম পাকশি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুলের মালিকানাধীন ৪ বিঘা জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে আবাদ শুরু করেন। শুরুতে লাউ চাষ করলে প্রতিবেশী বিপ্লব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় মো. আশিকের সহযোগিতা চাইলে তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং কৃষক তা পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে আশিক ও তার সহযোগী পলাশসহ কয়েকজন মিলে আবারো ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শরিফুলকে তুলে নিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি স্বজনদের মাধ্যমে আরো ১০ হাজার টাকা তাদের দেন। বাকি ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় গত মঙ্গলবার আশিক ও তার দলবল নিয়ে ক্ষেতের সব গাজর ও সবজি জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কৃষক শরিফুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমি অনেক কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছি। প্রতিবেশী জমির মালিকের সাথে ঝামেলা মিটাতে গিয়ে আমি এখন সর্বস্বান্ত। আশিক ও তার লোকজন আমার কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে সব ফসল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এর বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।"
এদিকে অভিযুক্ত মো. আশিক মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরাসরি দেখা হলে কথা বলবো।" এই বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, "কৃষকের ফসল লুটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments