দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা করায় সাইবার বুলিংয়ের শিকারের অভিযোগ ডা. মাহমুদা মিতুর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জেরে নজিরবিহীন সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। জামায়াত সমর্থিত জোটের পক্ষে মাঠে নামার পর থেকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু জানান, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে তার ওপর সাইবার আক্রমণের মাত্রা প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এই কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার নেপথ্যে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কর্মী ও সমর্থকরা জড়িত। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর কর্মীদের অনলাইন আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমার প্রতি করা প্রতিটি হ্যারাসমেন্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের দায় যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তাদের এই নৈতিক দায় নিতে হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডা. মাহমুদা মিতু ২০২৫ সালে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিমে ডেপুটি অর্গানাইজার হিসেবে নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গত ১১ ডিসেম্বর তাকে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্তে এবং জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২০ জানুয়ারি তিনি নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত প্রার্থীর পরিবর্তে জোটের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “একজন নারী হিসেবে মাঠপর্যায়ে আমার সক্রিয়তা এবং জামায়াত জোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই এই আক্রমণের মূল কারণ। নির্বাচনী পরিবেশে নারী প্রার্থীদের ভয় দেখানো ও মনোবল ভেঙে দিতেই সাইবার বুলিংকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আমি এসবে ভয় পাই না; প্রতিকূলতা মাড়িয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও জানান, এই অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। একইসঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments