Image description

যমুনা নদীবেষ্টিত কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এলাকার দীর্ঘদিনের ক্ষত—যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন। চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আর নদীভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি নিয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৯২৮ জন। যার মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা (১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪) পুরুষ ভোটারের (১ লাখ ৮৮ Site ৬০) চেয়ে বেশি। এছাড়া ৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। 

নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ সেলিম রেজা এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহিনুর আলমের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচনের দৌড়ে থাকা অন্য প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম (লাঙ্গল), নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব (কেটলি), গণঅধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুর (ঘোড়া)।

বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে যমুনা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘যমুনা উপজেলা’ গঠন, স্থানীয় কম্বল ও কাঠ শিল্পের উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করব।”

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর আলমও চরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “বিজয়ী হলে যমুনা নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই হবে আমার প্রথম কাজ। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের দাবি অনুযায়ী নতুন উপজেলা গঠন এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।”

নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নদীভাঙন থেকে মুক্তি আর আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর ভোটাররা এখন যোগ্য প্রতিনিধির অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা ওঠে, তা দেখতে ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষায় পুরো কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর।

মানবকণ্ঠ/ডিআর