Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, “গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া এবং সালথার রামকান্তুপুর ও বাহিরদিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমাদের কর্মীরা বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়। নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করতে রাতের অন্ধকারে এই ভোট কেনার চেষ্টা অত্যন্ত নেক্কারজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

বিএনপির এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, “ধানের শীষের অবস্থান যেসব এলাকায় শক্ত, সেসব এলাকার নেতাকর্মীদের হেনস্তা করার জন্য গত ৩-৪ দিন ধরে জামায়াতের লোকজন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। তদন্তে যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমি সকল প্রার্থীকে নিয়ম মেনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করছি। ড. ইউনূসের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, নির্বাচন কমিশনকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।”

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী বলেন, “ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি মানুষের দেওয়া টাকায় নির্বাচন করছি, আমার নিজেরই টাকা নেই। এই অভিযোগ আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে ভালো আছে।”

ভোটের আগের রাতেও টাকা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর