Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয় অর্জন করেছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জেলার পাঁচ আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন তাঁর কার্যালয় থেকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

গণভোটের সার্বিক চিত্র:
জেলার পাঁচ আসনে মোট ১৪ লাখ ৮০ হাজার ২৭০টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৫টি। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯৫টি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পড়েছে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৩টি এবং ‘না’ পড়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪০২টি ভোট। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট ‘না’র তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।

অন্যদিকে বিএনপির চার বিজয়ী প্রার্থী সম্মিলিতভাবে পেয়েছেন মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ ভোট।

আসনভিত্তিক ফলাফল:
গাজীপুর-১:
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহ আলম বকশী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩ ভোট। ভোটের হার ৫৩ দশমিক ০২ শতাংশ।
মোট ভোটার: ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৭ জন।
মোট প্রদত্ত ভোট: ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৪৪।
বাতিল: ৭ হাজার ৭৫০।
বৈধ: ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৪।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পড়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৮০ এবং ‘না’ ৮৮ হাজার ৯৯১ ভোট।

গাজীপুর-২:
বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী নাছের খান ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট। ভোটের হার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
মোট ভোটার: ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
মোট ভোট: ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৪।
বাতিল: ৮ হাজার ৪৮১।
বৈধ: ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৩।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৭ এবং ‘না’ ৮৪ হাজার ৯৭৬ ভোট।

গাজীপুর-৩:
বিএনপির অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। খেলাফত মজলিশের মুহাম্মদ এহসানুল হক ‘রিকশা’ প্রতীকে পান ১ লাখ ৫৩৯ ভোট। ভোটের হার ৫৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
মোট ভোটার: ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৯ জন।
মোট ভোট: ৩ লাখ ৩ হাজার ৯৭২।
বাতিল: ৮ হাজার ২৮০।
বৈধ: ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯২।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৫ এবং ‘না’ ৮০ হাজার ২৬৬ ভোট।

গাজীপুর-৪:
এ একমাত্র আসনে জামায়াতের সালাহউদ্দিন আইউবি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান পান ৯০ হাজার ৩৯০ ভোট। ভোটের হার ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
মোট ভোটার: ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৯ জন।
মোট ভোট: ২ লাখ ৪ হাজার ৪৪।
বাতিল: ৪ হাজার ৩৫৫।
বৈধ: ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৯।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৩ এবং ‘না’ ৫৮ হাজার ৯৮ ভোট।

গাজীপুর-৫:
এ আসনে বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক মিলন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের মো. খায়রুল হাসান পান ৭৮ হাজার ১২৩ ভোট। ভোটের হার ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
মোট ভোটার: ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন।
মোট ভোট: ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২৯।
বাতিল: ৪ হাজার ৩৭৭।
বৈধ: ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৫২।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪৮ এবং ‘না’ ৭৮ হাজার ৭১ ভোট।

গাজীপুরে এবারের নির্বাচনে বিএনপি চারটি আসনে এবং জামায়াত একটি আসনে জয় লাভ করেছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জেলার মোট বৈধ ভোটের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ফলাফলকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।