নওগাঁ-৩ আসনে ধানের শীষের বিশাল জয়, জামানত হারালেন ৬ প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।
অন্যদিকে, জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯ ভোট। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, বাসদ-এর কালিপদ সরকার (মই) ১ হাজার ২৩৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) ৮২৩ ভোট এবং বিএনএফ-এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) মাত্র ১৯৫ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নওগাঁ-৩ আসনের ১৪২টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটের হার প্রায় ৭৩ শতাংশ। আইন অনুযায়ী জামানত রক্ষার জন্য অন্তত ৪০ হাজার ২৪৬টি ভোটের প্রয়োজন ছিল, যা এই ৬ জন প্রার্থীর কেউই অর্জন করতে পারেননি।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি, যার প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনী ফলাফলে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত কোটার চেয়ে কম ভোট পাওয়ায় বিধি মোতাবেক ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments