পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল চালক সাব্বিরকে (২২) আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে বর্বরোচিত নির্যাতনের এক মাস পার হলেও মেলেনি কোনো আইনি প্রতিকার। বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই যুবক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কুয়াকাটা যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা রেকর্ড করেনি।
নির্যাতনের শিকার সাব্বিরের মা পারভীন বেগম জানান, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে স্থানীয় যুবদল নেতা রাসেল হাওলাদারসহ আরও ২-৩ জন সাব্বিরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ‘কুটুমবাড়ি’ নামের একটি হোটেলে আটকে রাখে। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও অমানবিক নির্যাতন করা হয়। পরে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সময় থেকেই সাব্বির গুরুতর অসুস্থ। গ্রামের মানুষের সহায়তায় বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা করানো হলেও বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। সাব্বিরের অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
পারভীন বেগম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পরই তিনি মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এক মাসেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো অভিযুক্তরা তাদের মামলা না করার জন্য ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘কুয়াকাটার একটি আড়ত থেকে মাছ দেওয়ার নাম করে সাব্বির টাকা দাদন নিয়েছিলেন। মাছ না দেওয়ায় আড়ত সংশ্লিষ্টরা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নই। বরং আমি চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে পরিবারকে দিয়েছি।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি আমি বেশ কয়েকদিন আগে শুনেছিলাম এবং একজন অফিসারকে খোঁজ নিতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি তারা মামলা করতে আগ্রহী ছিল না, কেবল চিকিৎসা খরচ তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের কাজে আমরা প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। তবে এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তাদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।’
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া এক যুবকের পরিবার যখন দ্বারে দ্বারে বিচার প্রার্থনা করছে, তখন প্রশাসনের এই অবস্থান নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments