তালতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে স্কুলে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের
বরগুনার তালতলী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন একাধিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও সেতুর পাটাতন ভেঙে খালে পড়ে গেছে, কোথাও আবার মাঝখান দেবে গেছে। এতে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সেতু পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেঙে পড়া কিছু সেতুর স্থানে এলাকাবাসী অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। তবে সেগুলোও অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি সেতু শিক্ষার্থীদের পারাপারের সময় ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপরও এখনো টেকসই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, গেন্ডামারা–সোনারপুল সেতু, বেহালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু, পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু এবং হুলাটানা সেতু বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া শানুর বাজারসংলগ্ন বেহালা খালের ওপর সেতু ও তালতলী মাছ বাজারসংলগ্ন সেতু কয়েক বছর আগে ভেঙে খালে পড়ে আছে।
বিশেষ করে সোনারপুল সেতুটি দুই পাড়ের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেতুর পূর্ব পাশে গেন্ডামারা বালিকা দাখিল মাদরাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম পাশে উত্তর গেন্ডামারা উম্মুল ক্বোরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উম্মুল ক্বোরা কলেজ ও একটি ইবতেদায়ি মাদরাসা অবস্থিত। প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এ সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপজেলা শহর ও বাজারে যাতায়াতের জন্যও এসব সেতুর ওপর নির্ভর করতে হয়।
পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতুটি ভেঙে পড়ায় বর্তমানে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী (খেয়া) নৌকায় পারাপার করছেন। অন্যদিকে তালতলী সদর মাছ বাজারসংলগ্ন সেতু ভেঙে পড়ায় পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ওই এলাকায় অবস্থিত একটি নূরানী ও হাফেজি মাদরাসার দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত এসব সেতু সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তালতলী মাছ বাজার, শানুর বাজার ও হুলাটানা সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে অন্যান্য সেতুর রাস্তার আইডি না থাকায় সেগুলো তালিকাভুক্ত করা যায়নি।




Comments