মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেও বছরের পর বছর পার হলেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত দুস্থরা। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের দিনের পর দিন ঘুরানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অনেক অসহায় নারী ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। শুধু বিধবা ভাতা নয়, বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০২৫ সালে বয়স্ক ভাতার আবেদন করেছেন, কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও কোনো খবর পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার যেন কেউ নেই।’
সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারের মানবিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসের গাফিলতি ও উদাসীনতা রয়েছে। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে প্রকৃত অসহায়দের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা যোগ্য ও প্রকৃত দুস্থদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘মূলত নতুন বরাদ্দ না থাকার কারণে অনেক আবেদনকারীকে ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে অভিযোগকারীদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগীদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments