বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলেদের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন জেলে আহত হয়েছেন এবং ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই জেলে। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পাথরঘাটা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন—বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মো. হিরু বয়াতি (আজিজ বয়াতির ছেলে) ও জসিম গাজী (বেলায়েত গাজীর ছেলে)। আহত চারজনকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে জাল পেতে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় ‘এফবি মুন্না’ নামের একটি ট্রলিং ট্রলার তাদের জালের ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জেলেরা বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ট্রলিং ট্রলারের জেলেরা আরও দুটি নামহীন ট্রলার ডেকে এনে ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভারী শিকল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে চার জেলে আহত হন এবং ধাক্কাধাক্কিতে দুজন সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি মনির আকন অভিযোগ করে বলেন, "হামলাকারীরা কেবল আমাদের মারধরই করেনি, ট্রলার থেকে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি তারা আমাদের কয়েক লাখ টাকার জালও কেটে নিয়ে গেছে।"
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "জালে প্যাঁচানো নিয়ে বিরোধের জেরে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, "সাগরে জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও লুটপাটের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি গভীর সমুদ্রে ঘটেছে, যা আমাদের সীমানার বাইরে, তাই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কোস্টগার্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments