বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মূল চ্যানেলে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফেরিগুলোকে এখন নির্ধারিত পথের চেয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি খরচও দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রহমতপুর–বাবুগঞ্জ–মুলাদী–হিজলা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই মিরগঞ্জ ফেরিঘাটটি গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে নদীর মাঝপথে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় সরাসরি ফেরি চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিকল্প পথ হিসেবে ফেরিগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হচ্ছে। এতে পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। বিষয়টি জানিয়ে গত ৫ মার্চ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান।
মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. রাকিবুল ইসলাম মামুন বলেন, “চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চালাতে আমাদের অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এছাড়া যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত খনন করা না হলে ফেরি চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, “আগে খুব দ্রুত পার হওয়া যেত। এখন ফেরি ঘুরে আসায় অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।” এক রোগীর স্বজন মো. আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ফেরির এই বিলম্ব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এর সমাধান দরকার।”
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে বলেন, “মিরগঞ্জ ফেরিঘাটের নাব্যতা সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।”
স্থানীয়রা জানান, বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও হিজলা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য এই ফেরিঘাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments