Image description

গাজীপুরের সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর শুক্রবার আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুল হোসেন রনি (১৪)। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। রনি গাজীপুরের খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম কওমি মাদরাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার পর বাসায় ফেরার পথে রনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ভবানীপুর এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রনির বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর নিহতের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই গাজীপুর।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির জানান, ঘটনার রাতে তিনি জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় রনি সেখানে গিয়ে তাকে দেখে ফেলেন এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনা গোপন করতে মরদেহে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই