চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় দাম্পত্য কলহ ও জমিজমার বিরোধের জেরে মোক্তার আলী ওরফে উকিল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত স্ত্রী নুতু খাতুনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকুন্দবাড়ী খালপাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিহত মোক্তার আলী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোক্তার আলী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুতু খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের সময় বাড়িতে মোক্তার আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, নুতু খাতুন তাকে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে ঘরের মধ্যে লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নুতু খাতুন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহতের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ অভিযোগ করেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিলন হোসেনের সঙ্গে তার সৎ মায়ের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। মোক্তার আলী তার সম্পত্তি সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নুতু ও মিলন মেম্বার ক্ষুব্ধ হন। তাদের পরিকল্পিত যোগসাজশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ছেলে আরিফের দাবি। নিহতের ভাগ্নে শাকিল জানান, এর আগেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ কাঠা জমি লিখে নিয়েছিলেন নুতু খাতুন। অবশিষ্ট জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে বিষপান করানো হয়েছে।
এদিকে, নুতু খাতুন উপস্থিত জনতার কাছে বিষপ্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অপর অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মিলন হোসেন পলাতক থাকায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানজারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments