Image description

নড়াইলের লোহাগড়ায় ক্রেতা সেজে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে পালিয়ে রক্ষা হয়নি; লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই কায়দায় চুরি করতে গিয়ে জনতা চক্রটির দুই নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে লোহাগড়া থানা মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘সজল জুয়েলার্স’-এ এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দোকানের মালিক শান্তি স্বর্ণকার (৬০) জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। 

দোকান মালিকের ভাষ্যমতে, সকালে দোকান খোলার পর তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ তার বসার চেয়ারের ওপর রাখেন। এ সময় তিন নারী ও দুই পুরুষ ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজন মেঝেতে টাকা পড়ে আছে বলে তাকে বিভ্রান্ত করলে তিনি নিচে তাকান। এই সুযোগে চক্রটি মুহূর্তের মধ্যে চেয়ারে রাখা ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ব্যাগে আনুমানিক ৩৫ ভরি স্বর্ণ, ১০০ ভরি রুপা এবং নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই চক্রটি। এ সময় উপস্থিত জনতা হাবিবা আক্তার (২৪) ও মরিয়ম খানম (৩০) নামে দুই নারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তবে তাদের সহযোগী হাসিনা বেগম নামে আরেক নারী কৌশলে পালিয়ে যায়। আটক দুই নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, আটক নারীরা একটি সুসংগঠিত চোরচক্রের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রেতা সেজে বা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল।

লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “আটক দুই নারীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর