Image description

ভোলার চরফ্যাশনে জীবিত থেকেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ‘মৃত’ হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মো. ইসমাইল (৩৭) নামে এক কৃষক। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে দীর্ঘ দিন ধরে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাকে। নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে গত দুই মাস ধরে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তিনি।

ভুক্তভোগী মো. ইসমাইল উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ইসমাইল চরফ্যাশন ফ্যাশন স্কয়ারের একটি দোকানে সিম কিনতে যান। সেখানে এনআইডি যাচাইয়ের সময় দোকানদার তাকে জানান যে, ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না এবং তাকে ‘মৃত’ দেখাচ্ছে। বিষয়টি শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তালিকায় তিনি মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

ভুক্তভোগী ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, “আমি সশরীরে উপস্থিত থাকার পরও কাগজে-কলমে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। গত দুই মাস ধরে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে নির্বাচন অফিসে ঘুরছি, কিন্তু এখনো ডাটাবেজে জীবিত হতে পারিনি। এই ভুলের কারণে সিম কেনাসহ জরুরি কোনো নাগরিক সুবিধাই পাচ্ছি না।”

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুদ্দিন জানান, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনলাইন অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদন পেলেই ডাটাবেজে তাকে পুনরায় জীবিত হিসেবে দেখানো সম্ভব হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হোসেন এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর