Image description

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এক নারী কর্মচারীকে (নকল নবীশ) যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে একই অফিসের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী কর্মচারীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী নারী একাধিকবার তাকে নিষেধ করলেও হয়রানির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মচারী জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে ওই অফিসে নকল নবীশ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রধান অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন তাকে মোবাইলে কল করে তাঁর বাড়িতে কিংবা আবাসিক হোটেলে যাওয়ার কুপ্রস্তাব দিতেন এবং ফোনে অত্যন্ত অশালীন কথা বলতেন।

তিনি বলেন, “আমার সংসার আছে জানিয়ে আমি তাকে বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি শোনেননি। আমার কাছে সব প্রমাণ ফোনে রেকর্ড করা আছে। নিরুপায় হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমি জেলা রেজিস্ট্রার স্যারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দিনাজপুর জেলা রেজিস্ট্রার সাজেদুর রহমান জানান, ওই নারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরামপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিমেল বাহার শুভকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে দিনাজপুর জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বিরামপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিমেল বাহার শুভ জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর