পটুয়াখালীর বাউফলে সুলভ মূল্যের চাল বিতরণে ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল মিটারের পরিবর্তে বালতি দিয়ে মেপে চাল দেওয়ায় সুবিধাভোগীরা প্রতি ৩০ কেজিতে ৪ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কার্ডধারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলায় বর্তমানে ২১টি পয়েন্টে ডিলারদের মাধ্যমে সুলভ মূল্যের চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবার প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে মোট ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা।
সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিলার রাকিবের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল পাল্লা ছাড়াই বালতি দিয়ে মেপে চাল বিতরণ করছেন তাঁর কর্মচারীরা। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর একটি মিটার এনে তিনি চাল বিতরণ শুরু করেন।
সেখানে উপস্থিত একাধিক সুবিধাভোগী অভিযোগ করে বলেন, "বালতি দিয়ে মেপে দেওয়ায় আমরা গড়ে ২৬ কেজি করে চাল পাচ্ছি। অথচ আমাদের কাছ থেকে পুরো ৩০ কেজির টাকাই নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ডিলাররা উল্টো ধমক দেন।"
অভিযুক্ত ডিলার রাকিব হোসেন মিটার না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, "আমার মিটার ছিল না, তাই বালতি ব্যবহার করেছি। পরে একটি মিটার ধার করে এনেছি। এখন থেকে মিটার দিয়েই চাল দেব।"
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে কালিশুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টের বিরুদ্ধেও। সেখানকার সুবিধাভোগীরা জানান, মাপে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে চাল দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন ডিলাররা।
নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় সরকারি ট্যাগ অফিসার বা খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কোনো পয়েন্টেই তাদের দেখা মেলেনি। এই সুযোগেই ডিলাররা ওজনে কারচুপি করছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, "মাপে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিলারদের ডিজিটাল মিটারে চাল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments