Image description

ঝিনাইদহে বাস পোড়ানো ও ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের পৃথক দুটি মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতজন নেতার বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দুই নেতার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে এবং বাকি পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং ‘দ্য রেড জুলাই’ এর জেলা আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশন’ ভাঙচুরের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর ও রাসেল হুসাইনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এই মামলায় পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ছাত্রনেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। একপর্যায়ে পাম্প কর্মীরা তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই রাতে একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। একই রাতে টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করে এবং বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে এই সাত ছাত্রনেতাকে আটক করে।

আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমান্ডপ্রাপ্ত দুইজনকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং বাকিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর