চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ড্রামট্রাকের ধাক্কায় নিহত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে আরাফাতুল ইসলাম মুন্না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার খৈয়াছরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন; যিনি কামালকে নিজের ‘ছেলের মতো’ বলে উল্লেখ করেন।
জানাজার আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহত কামালের ছেলে আরাফাতুল ইসলাম মুন্না, সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী। বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মী এই জানাজায় অংশ নেন।
বাবার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়া আরাফাতুল ইসলাম মুন্না অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিছু কুচক্রী মহল কিছুদিন ধরে আমার বাবাকে নিয়ে লেখালেখি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মেরেই ফেলেছে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। যারা আমাদের এতিম করেছে, প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির কাছে তাদের সঠিক বিচারের অনুরোধ জানাচ্ছি।”
মৃত মজিবুল হকের ছেলে কামাল উদ্দিন খৈয়াছরা ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ড্রামট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন কামাল। প্রথমে তাকে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই দুর্ঘটনার বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, যুবদল নেতা নিহতের ঘটনায় ড্রামট্রাক চালক খলিল হাওলাদারকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




Comments