নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আশার আলো দেখাচ্ছে ‘৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক’
বিদ্যুৎ খাতে বিপুল দেনার চাপ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরে স্থাপিত ‘৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক’। যমুনার চরাঞ্চলে অব্যবহৃত জমির ওপর নির্মিত এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কেবল জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না, বরং জমির বহুমাত্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ও খামারের নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে এই সোলার পার্কটি। কেন্দ্রটির ইনস্টল ক্যাপাসিটি ৭৫ মেগাওয়াট হলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কেন্দ্রটি গড়ে ১৮.৫০ শতাংশ ‘প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর’ অর্জন করেছে, যা গত বছরের অতিবৃষ্টির রেকর্ড অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন প্রকৌশলীরা।
প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখানে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৬টি ‘মনোক্রিস্টালাইন বাইফেসিয়াল পিভি মডিউল’ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্যানেলের ক্ষমতা ৫৪৫ কিলোওয়াট-পিক। এছাড়াও রয়েছে ৭২টি ইনভার্টার, ১২টি ইনভার্টার স্টেশন এবং একটি ১০০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন মেইন ট্রান্সফরমার। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩/১৩২ কেভি ভোল্টেজে রূপান্তর করে প্রায় ১০.৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক তানবীর রহমান জানান, যমুনা নদীর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে অবকাঠামোটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকাটি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সোলার প্যানেলগুলো উঁচু পাইলের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে বন্যার সময় প্যানেলগুলো নিরাপদ থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে প্যানেলের নিচের জমিতে সবজি চাষ ও গবাদিপশু পালন করা সম্ভব হচ্ছে। একে ‘অ্যাগ্রো-ভোল্টাইক’ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (NWPGCL) এবং চীনের সিএমসি (CMC)-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড (BCRECL)’ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া, প্রকল্পের পাশেই আরও প্রায় ৭৫ একর অনাবাদি জমিতে ভবিষ্যতে আরও ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, "জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জের এই সোলার পার্কটি মাইলফলক। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জমির সঠিক ব্যবহার স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"
সয়দাবাদ এলাকায় ২১৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই সোলার পার্কটি এখন দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অন্যতম সফল মডেল। এটি একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে কৃষি ও জ্বালানি শক্তির সমন্বয়ে টেকসই উন্নয়নের নতুন পথ দেখাচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments