Image description

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র (খাতা) ও নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে হরিপুর থানায় মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ইউএনওর কক্ষে বসে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ‘মব’ সৃষ্টি করে পরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।

মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিরা হলেন— হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান, এরফান আলী, মো. ফারুক, মাসুদ রানা ও মো. উজ্জ্বল।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ কিছু লোক তার কক্ষে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং জোরপূর্বক পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় টাকার লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে আমরা ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের কথা আমলে না নেওয়ায় ছেলেরা রাগে কিছু কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। তবে পরবর্তীতে সেগুলো আবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”

হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, “ইউএনও কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর