Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি (চিরইবাড়ি) এলাকায় অবস্থিত সবুজ কানন গার্মেন্টস কারখানায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা উৎপাদন কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে জড়ো হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৬০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন এবং এটি বিজিএমইএ’র অন্তর্ভুক্ত একটি গার্মেন্টস কারখানা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ১০ মার্চ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত বোনাস নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হন।

শ্রমিকরা জানান, কয়েকদিন ধরে বেতন ও বোনাসের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাননি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এদিকে কারখানার মালিক মো. সবুজ হোসেন বর্তমানে ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মোহাম্মদ কাইয়ুম হোসেনকেও কারখানায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।

কারখানার হিসাবরক্ষক তানভীর মাহমুদ মানবকন্ঠকে জানান, মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

তিনি জানান, মালিক বিদেশে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দেশে এসে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় মালিকপক্ষ মেশিনারিজ বিক্রি করে হলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। শ্রমিকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ওসি (তদন্ত) আবুবকর সিদ্দিক মানবকন্ঠকে বলেন, শ্রমিকরা আগের দিন থেকেও কর্মবিরতিতে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছে। জানা গেছে, গত ১০ মার্চ তাদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, কারখানার মালিক বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সামনে ঈদ থাকায় শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে। মালিক বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন।

বর্তমানে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ ও সিটি এসবির সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।