Image description

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক উপকারভোগীকে ওজনে ৭০০-৮০০ গ্রাম করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া অনেককে চাল দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিষদের ভেতরে একটি কক্ষে বালতির মাধ্যমে মেপে ব্যাগে করে চাল দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন উপকারভোগীর চাল স্থানীয় একটি মুদি দোকানের ডিজিটাল মিটারে মেপে দেখা যায়, ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যেক ব্যাগে ৯ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কার্ডে ৭০০-৮০০ গ্রাম চাল কম দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পাটগাতী ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার তথা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হোসেন আলী মিয়াকে বিতরণের শুরুতে পাওয়া যায়নি। পরে সংবাদকর্মীরা তাকে ফোন করলে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এ সময় তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি, বরং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

ভুক্তভোগী ববিতা ও মিরা বাড়ৈ জানান, বালতি দিয়ে মেপে চাল দেওয়ায় তারা বুঝতে পারেননি। পরে বাইরে মেপে দেখেন অনেক কম। ৮ নং ওয়ার্ডের ভ্যানচালক জাহিদ শেখ অভিযোগ করেন, চৌকিদার বাড়িতে গিয়ে আইডি কার্ড নিয়ে চাল আনতে বললেও পরিষদে যাওয়ার পর মেম্বার তাকে চাল না দিয়ে উল্টো 'বেয়াদব' বলে বের করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, পাটগাতী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৭৩০ জন দুস্থের জন্য ১০ কেজি করে মোট ৫৭৬ বস্তা চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস দাবি করেন, চাল বিতরণে বড় কোনো অনিয়ম হয়নি। হয়তো ২০০-৩০০ গ্রাম কম থাকতে পারে, কিন্তু ৭০০-৮০০ গ্রাম কম হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলমের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছেন। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর