জ্বালানি সংকটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা
জ্বালানি সংকটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে মিরসরাই পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকামুখী ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারির ফলে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করতে পারে।
গত কয়েক দিন ধরে মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনগুলোকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কন্টেইনারবাহী লরির জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের একপাশ জুড়ে শত শত ভারী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় দেশের এই ব্যস্ততম মহাসড়কে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। যানজটের প্রভাব চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ড হয়ে মিরসরাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে পণ্য নিয়ে বের হওয়া হাজার হাজার গাড়ি ডিজেলের সন্ধানে মহাসড়কের স্টেশনগুলোতে ভিড় করছে। পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে মহাসড়কের ঢাকামুখী দুই লেনের একটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাকি এক লেন দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিটি গেট থেকে বড়দারোগাহাট পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অংশে অন্তত ১২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনের সামনেই শত শত গাড়ির জটলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা জানান, সিটি গেট থেকে বাড়বকুণ্ড পর্যন্ত বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার আওতাভুক্ত এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো পয়েন্টে যানজট হচ্ছে। মূল কারণ হলো জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মহাসড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা। তারা আশঙ্কা করছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ঈদে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেলে মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments