Image description

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে হেনস্তা করে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পর প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে ইউপি সচিবের কক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার ডিভাইসটিও (মনিটরসহ) তারা নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবুর নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল ও সচিব সুজন চন্দ্র দাস জানান, রোববার দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্নার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। তারা কোনো কিছু না বলেই চেয়ারম্যান বুলবুলকে তাঁর কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন এবং দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা ইউপি সচিবের কাছে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার দাবি জানান। সচিব ফুটেজ মুছতে অপারগতা প্রকাশ করলে ছাত্রদল নেতারা সিসিটিভির পুরো ডিভাইস ও মনিটরটি খুলে নিয়ে যান।

চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল বলেন, "আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই। ছাত্রদল নেতারা এসে দাবি করেছেন যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছেন এবং ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় আমি সেখানে থাকতে পারব না। অথচ আমি নিরপেক্ষভাবে সেবা দিয়ে আসছি।"

অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি জহির রায়হান বাবু দাবি করেন, ওই ইউনিয়নের একটি এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন ইফতার মাহফিল করায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং এলাকার লোকজনই সেখানে তালা দিয়েছে। তবে সিসিটিভি ডিভাইস নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

চেয়ারম্যানকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখ স্থানীয়দের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল। এ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সোমবার বিকেল) কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি এবং ডিভাইসটিও ফেরত পাওয়া যায়নি।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, "বিষয়টি আমি শুনেছি এবং পুলিশকে অবহিত করেছি। সিসিটিভি ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।"

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঘটনাটি তারা জেনেছেন, তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই