Image description

গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানার সামনে গেলেই প্রায় প্রতিদিন দেখা মেলে এক মধ্যবয়স্ক মানুষের। কখনো থানার বারান্দায় বিষণ্ন মনে বসে থাকেন, কখনো দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন, আবার কখনো আগত দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরেন নিজের জীবনের করুণ গল্প। থানার কনস্টেবল থেকে শুরু করে ওসি—সবার কাছেই তিনি এখন এক অতি পরিচিত মুখ। তাঁর নাম মো. হালিম মিয়া (৪৩)।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিচার পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। কিন্তু তাঁর দাবি, বছরের পর বছর পার হলেও এখনো মেলেনি কোনো সুষ্ঠু সমাধান।

হালিম মিয়ার বাড়ি পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীবাড়ী এলাকায়। তিনি জানান, তাঁর নানা মৃত তমর উদ্দিন কাজীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ নিয়ে মামাদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। হালিম মিয়ার দাবি, তাঁর পৈতৃক ও নানার সূত্রে পাওয়া প্রায় ৬ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ১ কাঠা জমি বিক্রি করার কথা থাকলেও স্থানীয় এক মোক্তার ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর পুরো জমিই রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করলে শুরু হয় তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

হালিম মিয়া বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। প্রতারণা করে আমার সবটুকু জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পূবাইল থানা ও আদালতসহ প্রশাসনের প্রতিটি উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এক পর্যায়ে পুলিশ তদন্তে এসে ঘটনার সত্যতা পেলেও অদৃশ্য কারণে আজও আমি জমি ফিরে পাইনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে তিনি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। সাবেক এক জনপ্রতিনিধি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর ও নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “বহু বছর ধরে দেখছি এই মানুষটি একটি ফাইলের ব্যাগ হাতে থানার বারান্দায় বসে থাকেন। থানার প্রায় সবাই তাকে চেনে। এটি সত্যিই দুঃখজনক যে, এত বছর ঘুরেও তিনি কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।”

হালিম মিয়ার এখন দিন কাটে থানার বারান্দায় আর প্রশাসনের দপ্তরে দপ্তরে। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি এসেছিলেন ন্যায়বিচারের আশায়। তিনি বলেন, “আমি মরার আগে আমার জমির ন্যায্য বিচার দেখে যেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আকুতি—আমাকে আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ফিরিয়ে দিন।”

অফুরন্ত ধৈর্য আর আশা নিয়ে হালিম মিয়া আজও তাকিয়ে আছেন আইনের দিকে। তাঁর বিশ্বাস, কোনো একদিন হয়তো তাঁর এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর