ইঞ্জিন সংকটে দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, জারিয়া রুটে ফিরল স্বস্তি
ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথে ইঞ্জিন সংকটের কারণে বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেনগুলোর মধ্যে জারিয়া রুটে চলাচলকারী ট্রেনটি পুনরায় চালু হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কিছুটা কমলেও এখনো বন্ধ রয়েছে ময়মনসিংহ-ভৈরব এবং ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটের বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন। ফলে এই দুই রুটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিন সংকটের কারণে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটের ট্রেনটি সম্প্রতি পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব রুটের চিত্র এখনো বদলায়নি। ইঞ্জিন সংকটের কারণে গত বছরের ৩১ মে থেকে মোহনগঞ্জ রুটের একটি লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ভৈরব রুটের লোকাল ট্রেনগুলো করোনা মহামারির সময় বন্ধ হওয়ার পর আর চালু করা হয়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনটিতে যান্ত্রিক সমস্যা হওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তবে মেরামত শেষে ইঞ্জিনটি কবে নাগাদ ফিরবে এবং ট্রেনগুলো আবার কবে সচল হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে গৌরীপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য যাতায়াত খরচ মেটানো এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গৌরীপুর স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী বাবুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় আমাদের মতো দরিদ্র মানুষদের বাসে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।” স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রউফ দুদু বলেন, “দীর্ঘদিন লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের বিকল্প পথে সিএনজি বা বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।”
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন সেলিম বলেন, “মূলত ইঞ্জিন সংকটের কারণেই মোহনগঞ্জ ও ভৈরব লাইনের লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছি। ইঞ্জিন পেলেই বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments