Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল শারমিনের। কিন্তু তিনি ফিরলেন কফিনে বন্দি লাশ হয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শারমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী ফাহিম আল হাসান (২২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খৈইড়ুট গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ জুন প্রেমের সম্পর্কের পর শারমিন ও ফাহিম বিয়ে করেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়, যা শারমিন তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, "ঘটনার পর নিহতের স্বামী ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"

পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমিনের কপালে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শারমিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে জাবি প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

নিহত শারমিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমার ছোট মেয়েটাকে ওরা নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলেছে। প্রথমে ফোন দিয়ে বলা হয়েছিল শারমিনের বাসায় ডাকাতি হয়েছে, ল্যাপটপ-মোবাইল নিয়ে গেছে আর ওকে আঘাত করেছে। পরে এনাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে আর নেই। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর