গাইবান্ধায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে রাজাহার ইউনিয়নের বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী 'মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ'। প্রবল ঝড়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রাথমিক আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল আঘাতে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষের টিনের চালা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ইটের দেয়াল এবং চুরমার হয়ে গেছে দরজা-জানালা। ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সরঞ্জামাদি।
২০১৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মাহবুব হোসাইনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রকৃতির এই আকস্মিক রোষে প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ঈদের ছুটি শেষে পাঠদান শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়ে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এলাকার কারিগরি শিক্ষার প্রাণ। এর পুনর্গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।”
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাহবুব হোসাইন বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে ঘূর্ণিঝড়ে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে অবকাঠামোগত যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।” তিনি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডঃ শামীম কায়ছার লিংকন এবং উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থলটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments