Image description

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া ৪২ বোতল বিদেশি মদ পুলিশের হাতে হস্তান্তরের পর ১৭টি বোতল ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনতা ৪২ বোতল মদ জব্দের দাবি করলেও পুলিশ বলছে তারা পেয়েছে মাত্র ২৫ বোতল। উদ্ধার হওয়া মদের সংখ্যা নিয়ে জনতা ও পুলিশের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা (গোড়ান পাড়া) গ্রামের পোস্ট মাস্টার জালাল উদ্দীনের বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে এসব মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ী দুলাল ও রাজীব সেখানে মদের চালানটি লুকিয়ে রেখেছিল। জনতা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা মদের বোতলগুলো উদ্ধার করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করা হয়।

গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে টয়লেটের গর্ত থেকে মোট ৪২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তার উপস্থিতিতেই বোতলগুলো গুনে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, "এসআই মিজানুরের সামনেই ৩২ বোতল মদসহ তার ছবি তোলা হয়েছে এবং বাকি ১০ বোতল একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ছিল। এখন তিনি কেন ১৭ বোতল মদের কথা অস্বীকার করছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।"

অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান মদ উদ্ধারের কথা স্বীকার করলেও সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্থানীয় জনতা আমাকে মাত্র ২৫ বোতল মদ হস্তান্তর করেছে। এর বেশি আমি পাইনি।" অন্যদিকে, কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি মদ উদ্ধারের খবর শুনেছেন তবে বোতল কম-বেশির বিষয়টি তার জানা নেই।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, "ঘটনাটি আমি শুনেছি। উদ্ধার হওয়া মদের বোতলগুলো এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি। মদের বোতল কম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি পুলিশের কোনো সদস্যের এতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে মদ উদ্ধারের পর তা পুলিশের হেফাজতে গিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের করা ফেসবুক লাইভ ভিডিওটি এখন তদন্তের প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই