যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জোর করে চালানো একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেলেও ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাস যশোরের মনিহার এলাকা থেকে ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ফতেপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বাসটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি বিকট শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চালক ও যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে যেতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল ইসলাম জানান, বাসের চালকের দাবি অনুযায়ী বাসটিতে আগে থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল। চালক বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানালেও তারা তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক বাসটি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে বাধ্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। বাসের ফিটনেস এবং মালিকপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত না হলেও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments