কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্বশত্রুতার জেরে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লুনদিয়া গ্রাম। হত্যার বদলা নিতে প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুনদিয়া গ্রামের ‘পাগলা বাড়ি’ ও ‘শেখ বাড়ি’র মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গত ২৩ মার্চ রাতে পাগলা বাড়ির কিশোর ইমান হোসেন মোবাইল রিচার্জ করতে বের হলে শেখ বাড়ির লোকজনের হামলার শিকার হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ৭৯ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে শেখ বাড়ির লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে সুযোগ বুঝে পাগলা বাড়ির অনুসারীরা তাদের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েকদিনে শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আসবাবপত্র ও গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা কাম্য নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, তবে নিরীহ মানুষের সম্পদ রক্ষা করাও জরুরি।"
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments