পটুয়াখালীর বাউফলে ফিরোজ নামে এক তরমুজ চাষীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জনতার হাতে গণপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান (৪৫) ও শামীম (৩৫) নামে আরো দুই যুবক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে ৫ টার দিকে উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তালহা মুন্সি (৩৫), সাজ্জাল হোসেন (৩৩) ও জালাল গাজী (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষী ফিরোজের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সেরাজ ডাক্তারের ছেলে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকালে ফিরোজ তাঁর চাষাবাদ করা তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে চাঁদা দাবি করা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের তরমুজ কাটায় বাঁধা দেয় এবং ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে ফিরোজ অস্বীকৃতি জানালে ফিরোজকে এলাপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তাঁরা। এ সময় তার ( ফিরোজের) ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও হামলার চেষ্টা করে। এ সংবাদ পুরো এলাকা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে পৌছে ফিরোজের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর রহমান, উজ্জল কর্মকার ও শামীমকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জল কর্মকার মারা যান।
আহত তরমুজ চাষী ফিরোজ ও তাঁর ওপর হামলাকারী আহত শামীমকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান চন্দ্রদ্বীপে তরমুজ খেতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে না বলায় ফিরোজ আমিসহ আমার লোকজনদেরকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ তালহা মুন্সি (৩৫), সাজ্জাল হোসেন (৩৩) ও জালাল গাজী (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে। অন্য জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




Comments