Image description

মাগুরায় তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মিলছে জ্বালানি তেল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ। এ পরিস্থিতিতে স্বামীদের কাজের সুবিধার্থে নারীরাও লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানিেতেল সংগ্রহ করছেন।

মাগুরা জেলায় ১২টি তেলের পাম্পে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের জন্য কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা ভিড় করছেন। তবে এ সময় জেলার বেশ কিছু পাম্পে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সমানতালে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।

বহির্বিশ্বে যখন জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মাগুরায় নারীরা বাড়ির কাজ শেষ করে স্বামীদের কাজে, অর্থাৎ তেল নিতে সহযোগিতা করছেন।

গত মঙ্গলবার সকাল থেকে মাগুরার ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে।

মাগুরা সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকায় এলিজা বেগমকে ছেলেকে কোলে নিয়ে স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। শুধু এলিজা বেগমই নন, তার মতো অনেক নারীই এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছেন।

এলিজা বেগম বলেন, ‘স্বামী কৃষিকাজ করে। তেল নিতে অনেক সময় লাগে— পুরো একটা দিন লেগে যায়। স্বামীরা সারাদিন দাঁড়িয়ে তেল নিতে গেলে কৃষির অনেক কাজ নষ্ট হয়। তাই আমি স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে এসেছি।’

এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। বহির্বিশ্বে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় যানবাহন চালকসহ বিশেষ করে কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যস্ততার ফলে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবাই যাতে সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি তেল পায়, সে জন্য প্রতিটি পাম্পে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিং করছেন। এছাড়া একজন অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।’

জেলা প্রশাসক সবাইকে ধৈর্য ধরে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহের আহ্বান জানান।

মাগুরায় মোট ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। মাগুরা সদর এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে কৃষকরা সেচযন্ত্র ব্যবহারের জন্য ডিজেল পেতে বেগ পোহাচ্ছে।

অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বোরো ধান আবাদে এখনো তাদের সেচযন্ত্রের জন্য অনেক ডিজেল প্রয়োজন। যদি কোনো কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তারা ধান আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে যতটা সম্ভব গ্রাহকদের কাছে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।